শিশুর জীবন বিকাশে সিয়াম সাধনা

কালেমা, সালাতের মতই সিয়ামও ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ খুঁটি। রমজান মাসের রোজা যেমন মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ, নাবালক শিশুদের উপর রোজা ফরজ নয় বটে কিন্তু তাদেরকে রোজা পালনে অভ্যস্ত করা পরিবারের সকল সদস্যসহ মা-বাবার একান্ত কর্তব্য। 

digital-dream-it

শিশু বয়সে রোজা পালনে অভ্যস্ত হলে বালেগ হবার পরে ফরজ দায়িত্বটি পালনে তাদের কষ্ট হয় না। আমাদের আজকের আলোচনার মূল বিষয় শিশুর জীবন বিকাশে সিয়াম সাধনা। আসুন শিশুর জীবন বিকাশ সাধনে রমজানের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনাটি মনোযোগ সহকারে পড়ী ও আমল করার মাধ্যমে বাচ্চাদের অভ্যস্ত করে তুলি।

সূচীপত্রঃ ইসলামে যাকাতের বিধান | যাকাতের খাত ৮ টি

শিশুর জীবন বিকাশে সিয়াম সাধনা

শিশুর জীবন বিকাশে সিয়াম সাধনার গুরুত্ব অপরিসীম। আরবিতে একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে যে "আল ইল্মু ফিস সিগারী কান নাকসি ফিল হাজারী" অর্থাৎ "শিশু বয়সে শিক্ষা মনের গভীরে গেঁথে যায়" যেমন পাথরে খোদাই করা লেখনিটি গেঁথে থাকে এবং অনুসরণ করতে চেষ্টা করে। অতীতের মনিষীগণ মুখের কথা ফুটিয়ে তোলার লক্ষ্যে সর্বপ্রথম কালেমা উচ্চারণ করেন এবং শাহাদাতের আঙ্গুল উঁচু করে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলাতে চেষ্টা করেন যাতে করে ছোট বয়সে তাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ঈমান ও ভালোবাসা গেথে যায়। 

তেমনিভাবে শিশুকাল থেকেই সিয়ামকেও শিশুদের অন্তরে গেঁথে দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে । যাতে করে বড় হয়েও সিয়ামের প্রতি তার ভালবাসা অটুট থাকে ও সিয়াম পালন করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। মাহে রমজান মুসলিম উম্মার জন্য একটি মহিমান্বিত মাস, যা শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুশাসনের মাস নয়, বরং এটি আত্মসুদ্ধি, আত্মগঠন ও তাকওয়া অর্জনের এক মহামূল্যবান সুযোগ। 

সিয়াম পালনের মাধ্যমে একজন মুসলিম তার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে পারে, চরিত্র গঠন করতে পারে এবং আল্লাহর প্রতি তার শ্রদ্ধা ও ভয় বৃদ্ধি করতে পারে। এই মাসে অর্জিত আত্নিক এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির মাধ্যমে একজন মুসলিম তার জীবনকে আল্লাহর সন্তুষ্টি নির্দিষ্ট পথ অনুসরণের দিকে পরিচালিত করতে সক্ষম হয়। হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন "রোজা শুধু আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দিব।" মুসলিম ২৭৬০

রোজা আদর্শ মানব গঠনের সহায়ক

শিশুরা যেন নামাজে অভ্যাস হয় সে জন্য তাদেরকে নামাজ অভ্যস্ত বানাতে হয়। আল্লাহর নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "তোমাদের শিশুদেরকে সাত বছর বয়সে নামাজের তালিম দাও, দশ বছর বয়সে তাকে শাস্তি দিয়েও নামাজ শিখাও।" তবে বড় হবার পর তারা নামাজ পড়তে অভ্যস্ত হবে। সে বয়সে তাদের কোরআন শেখাও তাহলে সে কোরআন পড়তে অভ্যস্ত হবে। কোরআনের প্রতি তার ভালোবাসার সৃষ্টি হবে। আর শিশুর জীবন বিকাশে সিয়াম সাধনা করতে একমাত্র রমজান মাসই উপযুক্ত সময়।

  • আল্লাহপাক আত্মার পরিশুদ্ধি ও আল্লাহভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে রমজানের সাওম পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। 
  • রোজা আদর্শ মানব গঠনের সহায়ক। 
  • উন্নত আখলাক, সুন্দর চরিত্র ও আচরণ শিশুদের মধ্যে যা সৃষ্টি করে সেভাবেই তাদের গড়ে তোলার মহা সুযোগ। 
  • এ সুযোগটি কাজে লাগানোর জন্য প্রতিটি শিশুর মা বাবার কর্তব্য। 
  • শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয় হলো শিশুর মা ও বাবা। তারাই মূলত প্রথম শিক্ষক। বিদ্যালয়টি হল সার্বক্ষণিক। 

তাকওয়া অর্জন এবং আত্মবিশ্লেষণ করার মাধ্যমে রমজান আমাদের শেখায় আমরা যেন একটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ, ন্যায় সঙ্গত সমাজ গঠন করতে পারি। কোন শিশু যদি বিদ্যালয়ে থেকে ও মায়ের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাকে পরবর্তীতে সঠিক পথে নিয়ে আসা খুবই কঠিন। একমাত্র রমজান মাসেই শিশুর জীবন বিকাশে সিয়াম সাধনা তার এই সকল অভ্যাসগুলো গড়ে তুলতে খুব সহায়ক। রমজান মাসে এ সকল অভ্যাসগুলো দ্বারস্থ করার কারণে তাকে বছরের অন্যান্য সময়ে উদ্বুদ্ধ করা পিতা-মাতার জন্য খুব সহজতর হয়ে থাকে।

শিশুরা বাবা মায়ের খুব অনুরক্ত হয়ে থাকে 

শিশুরা বাবা মায়ের খুব অনুরক্ত হয়ে থাকে। মা-বাবা মিথ্যা বললে সন্তানেরা মিথ্যা বলা শেখে, মা বাবা গালাগাল করলে সন্তানরাও গালাগাল করা শেখে বা অশুভ আচরণ করলে শিশুরাও মানুষের সাথে অশুভ আচরণ করে। পরিবারটি কি ধরনের সেটা শিশুর আচার-আচরণে বুঝতে পারা যায়। 

যেমন হাদিসে এসেছে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন "তোমার জনগণ তোমার ব্যাপারে ভালো, বললে তুমি ভালো আর খারাপ বললে তুমি খারাপ। এজন্য বাহির থেকে ক্যারেক্টার পত্র নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। পাড়া-প্রতিবেশীর সাক্ষীই যথেষ্ট।"

সন্তানকে আদর্শিক ভাবে গড়ে তুলতে বাবা-মায়ের ভূমিকা

মা-বাবাকে শিশু গঠনের দায়িত্বটি নিয়ে অবহেলা করা উচিত নয়। সামান্য অবহেলার জন্য জীবনভর আক্ষেপ করতে হয়। আর ভোগান্তি রয়েছে সীমাহীন। আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি কূলের মধ্যে সর্বশেষ্ঠ সৃষ্টি হচ্ছে মানবজাতি। আর এই মানবজাতিকে সৃষ্টি কূলের সর্বশ্রেষ্ঠ করে করে গড়ে তুলতে হলে তার সর্বোত্তম সময় হচ্ছে শিশুকাল। শিশু বিকাশের দুইটি দিক রয়েছে যথাঃ

  1. শারীরিক বিকাশ এবং 
  2. মানসিক বিকাশ। 
  • শারীরিক বিকাশঃ শারীরিক বিকাশ বলতে শিশুর দৈহিক বৃদ্ধি ও আকার আকৃতির বৃদ্ধিকে বুঝায়।
  • মানসিক বিকাশঃ মানসিক বিকাশ বলতে শিশুর বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাষার প্রকাশ, বোধশক্তি, অনুভূতি, বুদ্ধিমত্তা, আচার-আচরণ, ভাবের আদান প্রদান, শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যবহার ইত্যাদি বিষয় ছাড়াও আরো অনেক বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি পাওয়াকে বুঝায়। 
বাবা মা হিসেবে শিশুর শারীরিক সুস্থতা ও বৃদ্ধির যেমন গুরুত্ব দেওয়া উচিত ঠিক তেমনি তার মানসিক বিকাশের দিকটিকেও আরো অধিক গুরুত্ব দেয়া উচিত। কারণ আদর্শিক মানুষ হতে হলে অবশ্যই তাকে মানবিক গুণাবলী সম্পূর্ণ মানুষ হতে হবে। আর কোন মানুষ ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত না হলে সে মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন মানুষ হতে পারে না। এই সম্পর্কে নবী করীম (সাঃ) বলেন "তোমাদের সন্তানদেরকে উত্তম শিক্ষা দান করো। কেননা এই শিশুরাই তোমাদের পরবর্তী যুগের জন্য সৃষ্ট।"

নবী সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বলেছেন "তোমাদের অধীনস্থদের বিষয়ে তোমাদের জবাবদিহি করতে হবে" আবার এটাও হাদিসে বলা হয়েছে "যে মাতা পিতা নিজ সন্তানদের সুশিক্ষা দিতে ব্যর্থ কেয়ামতের দিন ওই সন্তানরাই নিজ বাবা মায়ের বিরুদ্ধে আল্লাহর দরবারে অভিযোগ কারী হবে। তারা বলবে আমাকে শাস্তি দেয়ার আগে আমার বাবা মাকে শাস্তি দিয়ে দিন। জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়ার জন্য তারাই দায়ী আমরা দায়ী নই।"

সন্তানরা রোজা পালনে নিরোৎসাহিত হওয়ার কারণ

সন্তানকে রোজা পালনে নিরাৎসাহিত হওয়ার প্রধান অন্তরায় তার বাবা-মা নিজেই। কারণ ক্যারিয়ার গঠন, স্বাস্থ্যের অবনতি ইত্যাদির কথা বলে সাধারণত বাবা মা তার সম্মানকে রোজা পালন করা থেকে বিরত রাখেন ।

  • বর্তমানে রমজান মাসে রোজা পালনের বিষয়ে শিশুদের নিরোৎসাহিত করা হয়। 
  • শিশুরা রোজা রাখতে চাইলেও তাদের রোজা রাখতে দেয়া হয় না। 
  • রোজা ভাঙার জন্য বল প্রয়োগ করা হয়। 
  • তারা সেহরি খেতে চাইলেও ঘুম থেকে জেগে উঠতে দেওয়া হয় না। 
  • লেখাপড়া ও স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ দেখিয়ে রোজা পালন থেকে বিরত রাখা হয়। 

তাদের এই আচরণটি নিষ্ঠুরতা ছাড়া কিছুই না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন বলেছেন "রোজা রাখো সুস্থ থাকো।"

রমজান আমাদের শিশুদেরকে যেসব শিক্ষা বা অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক

আদর্শ শিশু হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব মা-বাবার। মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীতে রমজান মাসের তিন / চার বছরের শিশুদেরকেও রোজা রাখতে দেখা যায়। বিভিন্ন মসজিদে শিশুদের রোজা পালনে আনন্দ করতে দেখা যায়। 

  • রোজা মানুষকে নেক আমলের শিক্ষা দেয়। 
  • সত্য বলায় অভ্যাস বানায়। 
  • অন্যায় থেকে বাঁচাবার জন্য ঢাল ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে করে দেয়। 
  • অন্যান্য সৎকাজের উৎস হলো রমজান মাসের রোজা। 
  • তারা রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াত করে। 
  • মসজিদে জামাতের সাথে নামাজ পড়ে। 
  • নফল ইবাদত করে। 
  • দান খয়রাত করে। 
  • নিজে ইফতার করে  এবং অন্যকেও সঙ্গে করে নিয়ে আসে একসাথে ইফতার করার জন্য। 

এখানে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ কথা মূলত কুরআনের কারণেই রমজানের গুরুত্ব এত বেশি। মনোযোগ সহকারে পড়ুন -

জিব্রাইল আলাই সাল্লাম ফেরেশতাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ 

কারণ তার মাধ্যমে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। 

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম নবীদের সর্বশ্রেষ্ঠ 

কারণ তার ওপর কুরআন নাজিল হয়েছে।

মাসের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মাস রমজান

কারণ রমজান মাসেই কোরআন শরীফ অবতীর্ণ হয়েছে ।

রাতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ রাত হচ্ছে লাইলাতুল কদর 

কারণ লাইলাতুল কদরের রাতে কোরআন শরীফ নাযিল হয়েছে ।

তেমনিভাবে মানুষও শ্রেষ্ঠ যদি সে কোরআন শরীফ অনুযায়ী তার জীবন অতিবাহিত করেন।

শিশুদের সাথে মহানবী সাঃ যেমন সম্পর্ক

শিশুদের সাথে মহানবী সাঃ এর যেমন সম্পর্ক ছিল সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণার জন্য দুইটি হাদিসই যথেষ্ট। হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম একবার হাসান ইবনে আলীকে চুম্বন করেন। ওই সময় তার কাছে আকরা ইবনে হাবিস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বসেছিলেন এবং বললেন আমার দশটি পুত্র সন্তান আছে। আমি তাদের কাউকেই কোনদিন চুম্বন করিনি। হযরত রাসুলুল্লাহ সাঃ তার দিকে ফিরে তাকালেন এবং তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন যে দয়া করে না, তাকে দয়া করা হয় না। বোখারী ও মুসলিম

মহানবী হযরত মোহাম্মদ সাঃ শিশুদের কে অনেক বেশি ভালোবাসতেন। তিনি তাদেরকে নিজের সন্তানের মতই আদর স্নেহ ও ভালোবাসা দিতেন। বিভিন্ন সময় দেখা গিয়েছে তিনি নামাজরত অবস্থায় থাকলেও এবং কোন শিশু যদি কান্না করত তাহলে তিনি নামাজ ছেড়ে দিয়ে সে শিশুর কান্না থামার জন্য চেষ্টা করতেন। তিনি সর্বদাই চাইতেন কোন শিশু যেন কখনো কোন কষ্ট না পায়। তিনি কখনও শিশুদের কাঁদতে দিতেন না, শারীরিকভাবে কোন নির্যাতন করতেন না বরং সবসময় ভালো ব্যবহার করতেন এবং তাদেরকে ভালো শিক্ষা ও তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করার কথা বলতেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন "তোমরা সন্তানদের স্নেহ করো, তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করো এবং ভালো ব্যবহার ও শিষ্টাচার শিক্ষা দাও।" তিরমিজি মহানবী হযরত মোহাম্মদ সাঃ সর্বদা শিশুদেরকে আগেই সালাম দিতেন। কখনোই কোন শিশু মহানবী সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লামকে আগে সালাম দিতে পারে নাই।

অদূর ভবিষ্যতে এর প্রভাব কেমন হতে পারে

    বাস্তবে শিশুদের রোজা পালনের উৎসব দেখার মত। রমজান মাসে এক সাথে শিক্ষা গ্রহণের বহু কিছু রয়েছে। এখানে উদাহরণস্বরূপ দুটি গল্প তুলে ধরা হলোঃ-

    1. এক আল্লাহতালা লোকের সন্তান প্রতিবেশীর গাছ থেকে আম চুরি খেয়ে ফেলল। লোকটি ঘরে গিয়ে নিজ স্ত্রীর কাছে চুরির ঘটনাটি বলল। তার স্ত্রী বলল বাল্যকালে আমার আম চুরি করে খাবার কথা মনে পরল অথবা স্বামীকে বললেন ছোটবেলায় কোন এক সময় চুরির অপরাধ করেছিলাম বলে আমার সন্তানও আজ চুরি করে আম খেয়েছে। সন্তানের উপর চুরির সেই প্রভাব সৃষ্টি করেছিল যার মাসুল দিতে হলো সেই মা-বাবাকেই।
    2. দ্বিতীয় আরেকটি ঘটনা মা-বাবার উদাসীনতার কারণে তাদের একটিমাত্র সন্তান মাদকাসক্তের শিকার হয়ে পড়ে সংসারের জন্য বিপর্যয় ডেকে এনেছিল। মাদকাসক্তের অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে বহু চেষ্টা তদবির করেও তারা ব্যর্থ হন। অনেক সম্পদ ব্যয় করেছেন। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। ছেলেকে মানুষ করানোর চেষ্টা স্বরূপ তাকে মক্কায় বাইতুল্লাহতে নিয়ে যান। ওমরা করেন, তাকে নিয়ে (ছেলেকে )আবার দেশে ফিরে এলেন কিন্তু নেশার অভ্যাসটি ছাড়াতে পারেলন না। সর্বশেষ ছেলেটি মারা গেল। ক্ষণিকের মধ্যে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল।
    মূলত আপনার জীবনের ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাগুলো কোন না কোন ভাবে আপনার সন্তান, পরিবার কিংবা সমাজের উপর প্রভাব ফেলতে বাধ্য। এমনকি আপনি যদি আপনার পিতা মাতার সাথে সৎ ব্যবহার না করে থাকেন তবে কোন না কোন সময় আপনার সন্তানও আপনার সাথে অসৎ ব্যবহার করবে কিংবা আপনার বৃদ্ধ বয়সে দেখ-ভালো করবে না।

    এখানে কোরআনের কিছু আয়াত উল্লেখ করা প্রয়োজন বলে মনে করছিঃ-

    আল্লাহ বলেন "বলুন আমি কি তোমাদেরকে সেসব লোকের সংবাদ দেব যারা কর্মের দিকে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। তারাই সে লোক যাদের প্রচেষ্টা পার্থিব্য জীবনে বিভ্রান্ত হয়। অথচ তারা মনে করে যে তারা সৎকর্ম করছে।" সূরা আল কাহফ আয়াত ১০৩-১০৪।

    আপনাদের প্রতি আমাদের আহ্বান 

    শিশুর জীবন বিকাশে সিয়াম সাধনা ব্যাখ্যায় ছোট মনি শিশুরা রমজানের রোজা পালনে অভ্যস্ত করাবার জন্য অভিভাবকদের প্রতি কতিপয় নির্দেশনা পালনের আহ্বান রাখা খুবই জরুরী বলে মনে করছিঃ-

    • রমজানের রোজা পালনে ঘরের সন্তানদের সুযোগ দিতে হবে সেই সাথে সৃষ্টি করতে হবে উপযোগী পরিবেশ।
    • তাদের সহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে ইফতার ও সেহরীর আয়োজন করতে হবে।
    • তাদেরকে কাছে বসিয়ে কোরআন তেলাওয়াত করতে হবে, সেই সাথে কোরআনের বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করতে হবে।
    • রমজানের ফজিলত সম্পর্কিত আয়াত ও হাদিস পাঠ করতে হবে।
    • তারাবি নামাজ সহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে পড়াবার অভ্যাস করতে হবে।
    • ডাইনিং টেবিলে খেতে বসে ইসলামী শিক্ষার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে মতবিনিময় করতে হবে।
    • দান-খয়রাতের সময় সন্তানদের সাথে রাখতে হবে।
    • মাসনুন দোয়া গুলো মুখস্ত করার চেষ্টা করতে হবে ।
    • কবিরা গুনাহ কি কি সেটা তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে। কবিরা গুনার পরিণাম জানিয়ে দিতে হবে।
    • সন্তানদের ত্রুটি বিচ্যুতি গুলো সুন্দরভাবে সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। তাদের দোষ গুলো বড় করে দেখবার প্রয়োজন নেই।
    •  তাদেরকে সর্বদা ক্ষমার চোখে দেখতে হবে।

    শিশুর জীবন বিকাশে সিয়াম সাধনা | শেষ কথা

    শিশুর জীবন বিকাশে সিয়াম সাধনা পালনে অভ্যাসতো করতে আসুন আমরা এই পবিত্র মাহে রমজানকে সবাই সঠিকভাবে পালন করি। নিয়মিত কোরআন শরীফ চর্চা করি ও সন্তানদেরকে সেইভাবে গড়ে তুলি যাতে সন্তান আমার ভবিষ্যতের সম্পদে পরিণত হয়। কেয়ামতের মাঠে শেষ বিচারের দিন এ সন্তান যেন আমার জাহান্নামে যাওয়ার কারণ না হয়। 

    এই সন্তান যদি কেয়ামতের মাঠে আমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয় আমি তাকে উপযুক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি নি, কোরআনের শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলি নাই তবে জাহান্নামে যাওয়া আমার / আপনার জন্য অবধারিত। কারণ সেই দিন আল্লাহর সামনে জবাব দেয়ার মত কোন উত্তরই আমাদের কাছে থাকবে না। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমাদের পবিত্র মাহে রমজানের এই সকল শিক্ষা গুলো সারা বছর কর্ম সম্পদনের মাধ্যমে আমল করত সহায় হন আমীন।

    এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

    পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
    এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
    মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

    এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

    comment url